ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তেহরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনিকে হত্যার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে চালানো এ আকাশযুদ্ধের পরও ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন নাও হতে পারে।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সাংবাদিকদের সঙ্গে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, প্রায় দুই সপ্তাহের টানা বোমাবর্ষণের পর ইরান আগের অবস্থায় নেই এবং দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোর ও বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও হামলা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মুজতাবা খামেনিকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে বিশেষজ্ঞ পরিষদ।
সংবাদ সম্মেলনে মুজতাবা খামেনি ও হিজবুল্লাহপ্রধান নাইম কাশেমের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে নেতানিয়াহু বলেন, ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের কোনো নেতার জন্য জীবনবিমা নীতি নিতে পারি না আমি।’ তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। সেই হুমকি দূর করতেই তেহরানের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটুক—এমন প্রত্যাশাও তাদের রয়েছে।
তবে প্রায় দুই সপ্তাহের হামলার পরও ইরানে বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বরং দেশটির বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থিদের বড় সমাবেশ ও মিছিলের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের ক্ষমতাসীনদের পতন ঘটবেই—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে চলমান হামলার পর তারা দুর্বল হয়ে পড়বে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, শাসনব্যবস্থার পতন সাধারণত ভেতর থেকেই আসে, তবে সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে ইসরায়েল সহায়তা করছে।
আপনার মতামত লিখুন :